Is celebrating Milad allowed in Islam?

বর্তমানে কথিত আলেমগণ হজরত নবী করিম (সাঃ) এর জন্মদিন পালন করা যাবে বলে ফতুয়া দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। এছাড়া তারা বিভিন্ন সময় কুরআনের আয়াত...

Celebrating Milad

বর্তমানে কথিত আলেমগণ হজরত নবী করিম (সাঃ) এর জন্মদিন পালন করা যাবে বলে ফতুয়া দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। এছাড়া তারা বিভিন্ন সময় কুরআনের আয়াতের অপব্যাখ্যা দিয়ে মিলাদুন্নবী (সাঃ) পালনের স্বপক্ষে দলিল পেশ করছে, যা বিভ্রান্তিকর ও বানোয়াট। 



সুতরাং আমি এখানে তাদের দলিল হিসেবে উপস্থাপিত এমনই একটি আয়াত সম্পর্কে আলোচনা করব যা কোনভাবেই দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। 



Is celebrating Milad allowed in Islam?

ইসলামে কি মিলাদ উদযাপন অনুমোদিত?

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের সমস্ত উলামা ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, ‘মিলাদুন্নবী উৎসব’ পালন করা বিদআত। কেণনা, উহা খোলাফায়ে রাশেদীন ওয়াল মাহদিন তথা হজরত আবু বকর, উ’মর, উসমান, ও আ’লী (রিদওয়ানুল্লাহ তায়া’লা আজমাঈন) কর্তৃক স্বীকৃত নয়। এমনকি তাবেঈন, তাবে-তাবেঈন দ্বারা স্বীকৃত নয়। অর্থাৎ কুরুনে ছালাছার সময় মিলাদ জাতীয় উৎসবের কোন অস্তিত্ব ছিল না। 

পক্ষান্তরে, মসোল শহরের বাদশা আবু সাঈদ মুজাফ্ফর উদ্দীন কাওকারী এর শাসনামলে ৬০৪ হিজরী সনে তৎকালিন বিদআতী ও দরবারী আলেম আবুল খাত্তাব ওমর বিন দিহইয়া কর্তৃক উদ্ভাবিত হয়। 

যার কারণে, আখেরী জমানার শ্রেষ্ট মুজাদ্দেদ হজরত ইমামে রব্বানী মুজাদ্দেদ আলফেছানী সেরহিন্দী (রহঃ) তাঁর লিখিত মাকতুবাত শরীফ এর ১ম খন্ডের ২৭৩ নম্বর মাকতুবে মিলাদ পালনকে বিদআত বলেছেন এবং যারা পালন করেন তাদের কঠোর সমালোচনা করেছেন। এছাড়াও, উনার সিলসিলাভূক্ত মাশায়েখগণ (তথা হজরত আব্দুর রহিম দেহলভী (রহঃ), হজরত শাহ ওয়ালী উল্লাহ মুহাদ্দেছ দেহলভী (রহঃ), আব্দুল আজিজ দেহলভী (রহঃ) ও প্রমূখ) মিলাদুন্নবী পালন করেন নাই। এমনকি হজরত আব্দুল আ’জিজ দেহলভী (রহঃ) তাঁর ফতুওয়ায়ে আ’জিজীর ৯৩ পৃষ্টায় লিখেছেন যে, মিলাদ পালন করা বিদআত ও পরিত্যাজ্য।   

তবে বিদআতীগণ কুরআনে ঈদ বা আনন্দোৎব আছে বলে নিম্নের আয়াতটি দলিল হিসেবে পেশ করে। যথাঃ

ঈসা ইবনে মরিয়ম বললেনঃ হে আল্লাহ! তুমি আকাশ থেকে আমাদের জন্য একটি খাবার টেবিল নামিয়ে দাও, যা আমাদের জন্য এবং আমাদের প্রথম ও আমাদের পরবর্তী জনগণের জন্য ভোজসভায় পরিণত হবে, তাছাড়া ইহা তোমার পক্ষ থেকে একটি নিদর্শন হিসেবে গণ্য হবে। তুমি আমাদেরকে জীবিকা দান কর। তুমিই উত্তম জীবিকাদাতা। (সূরা মায়িদা, আয়াত-১১৪)


তবে, আমার মতে, উপরোক্ত আয়াত বা অনুরুপ আয়াত দ্বারা দলিল গ্রহণ করা যাবে না। উহার ২ টি কারণ। যথাঃ 

প্রথম কারণঃ

আয়াতটি আমছাল অর্থাৎ মেছাল বা দৃষ্টান্তমূলক আয়াত। আর দৃষ্টান্তুমূলক আয়াতগুলি কখনোও দলিল বা প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যায় না। কারণ কুরআন মাজিদে এমন অসংখ্য আয়াত আছে যা আমছালের জন্য নাজিল হয়েছিল। কেণনা, কুরআন মাজিদে মোট চার ধরণের আয়াত রয়েছে। যেমনঃ
  • আমছাল বা দৃষ্টান্তমূলক;
  • মানসুখ বা রহিত;
  • মুতাশাবিহাত বা গুঢ়রহস্য সম্বলিত আয়াত; ও
  • মুহকাম বা বিধান সম্বলিত। 
যদিও সকল আয়াতের উপর ইমান রাখতে হবে। তবে কেবলমাত্র এক প্রকার আয়াত তথা মুহকাম আয়াতই বিধিবদ্ধ আইন হিসেবে গ্রাহ্য। আর এইরুপ আয়াতের সংখ্যা প্রায় ৫০০ শত।


দ্বিতীয় কারণঃ

যদি বিদআতীদের কথা অনুযায়ী আয়াতটি আমছাল নয়; মুহকাম বা বিধান সম্বলিত মেনে নেওয়া যায়। তারপরেও উক্ত আয়াতের উপর আ’মল করা যাবে না। কারণ, কুরআন মাজিদে আল্লাহ উম্মতে মুহাম্মদীর জন্য কেবলমাত্র শরীয়তে ইব্রাহিমী অনুসরণীয় ও আদর্শ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। যথাঃ
  • কুরআন মাজিদে বলা হয়েছেঃ 
কদ কানা লাকুম উসওয়াতুন হাসানা ফি ইব্রাহিমা ওয়াল্লাজিনা মায়া’হু। (সূরা মুমতাহিনা, আয়াত-৪)

অর্থঃ ইব্রাহিম এবং তাঁর সাথে যারা ছিলেন তাদের মধ্যে আপনার জন্য একটি ভাল আদর্শ রয়েছে।
  • কুরআন মাজিদে বলা হয়েছেঃ
ছুম্মা আওহায়না ইলায়কা আনিত্তাবা’ মিল্লাতা ইব্রাহিমা হানিফা, ওয়ামা কানা মিনাল মুশরিকিন। (সূরা নাহল, আয়াত-১২৩) অর্থঃঅতঃপর, তোমার প্রতি ওহি প্রেরণ করেছি যে, তুমি একনিষ্ঠ  ইব্রাহিমের অনুসরণ কর। ফলে, উম্মতে মুহাম্মদী ইব্রাহিমের (আঃ) এর অনুসরণ হিসেবে কুরবানী করে থাকে।

এছাড়া, হজরত ইয়াকুব (আঃ) ও  ইউসূফ (আঃ) এর শরীয়তে ‘তাজিমী সিজদা’ জায়েজ ছিল। যেমন 
  • কুরআন মাজিদে বলা হয়েছেঃ
ওয়া রফায়া’ আবওয়াইহে আ’লাল আরশি ওয়া খার্রু লাহু সুজ্জাদা। (সূরা ইউসূফ, আয়াত-১০০)
অর্থঃ আর তিনি যখন তাঁর পিতা-মাতাকে রাজাসনে উঠালেন এবং তাঁরা সকলে তাঁর সামনে সিজদায় লুটিয়ে পড়লেন। 

অথচ, শরীয়তে মুহাম্মদীতে তা’জিমী সিজদা সম্পূর্ণভাবে হারাম।  



পরিশেষে বলা যায় যে, যেমন আইনের উৎস হিসেবে নজির বা Precedent গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও সব নজির আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে Authoritative বা কর্তৃত্বমূলক নয়; বরং Persuasive বা অনুসরণীয়। তদ্রুপভাবে, কুরআন মাজিদের আমছাল বা দৃষ্টান্তমূলক আয়াত আইনী দলিলের জন্য নাজিল হয়নি; বরং উদাহরণস্বরুপ।  

COMMENTS

BLOGGER
Name

101 Law,106,British Law,2,Constitutional Law,10,Contract Law,11,Equity and Trust Law,5,Hindu Law,12,Jurisprudence,9,Labour Law,5,Law of Limitation,1,Legal Terms,3,Muslim Law,26,Penal Code,1,Question Bank,1,Reviews,3,Specific Relief Law,8,Tax Law,4,Tort Law,11,
ltr
item
Money Gelt - The Blog of Law: Is celebrating Milad allowed in Islam?
Is celebrating Milad allowed in Islam?
https://1.bp.blogspot.com/-SvP0KMr1OAI/X5pjTL2ObPI/AAAAAAAAHkY/zP5kPEy0UGg5yfbAjdAVvPg2CQkEd6IiwCNcBGAsYHQ/w320-h213/moneygelt.com.jpg
https://1.bp.blogspot.com/-SvP0KMr1OAI/X5pjTL2ObPI/AAAAAAAAHkY/zP5kPEy0UGg5yfbAjdAVvPg2CQkEd6IiwCNcBGAsYHQ/s72-w320-c-h213/moneygelt.com.jpg
Money Gelt - The Blog of Law
https://www.moneygelt.com/2020/10/is-celebrating-milad-allowed-in-islam.html
https://www.moneygelt.com/
https://www.moneygelt.com/
https://www.moneygelt.com/2020/10/is-celebrating-milad-allowed-in-islam.html
true
6480011244828366564
UTF-8
Loaded All Posts Not found any posts VIEW ALL Readmore Reply Cancel reply Delete By Home PAGES POSTS View All RECOMMENDED FOR YOU LABEL ARCHIVE SEARCH ALL POSTS Not found any post match with your request Back Home Sunday Monday Tuesday Wednesday Thursday Friday Saturday Sun Mon Tue Wed Thu Fri Sat January February March April May June July August September October November December Jan Feb Mar Apr May Jun Jul Aug Sep Oct Nov Dec just now 1 minute ago $$1$$ minutes ago 1 hour ago $$1$$ hours ago Yesterday $$1$$ days ago $$1$$ weeks ago more than 5 weeks ago Followers Follow THIS PREMIUM CONTENT IS LOCKED STEP 1: Share to a social network STEP 2: Click the link on your social network Copy All Code Select All Code All codes were copied to your clipboard Can not copy the codes / texts, please press [CTRL]+[C] (or CMD+C with Mac) to copy Table of Content